
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি ইমতিয়াজ সরকার নিপু অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার ছোট ভাই ও বিএনপি নেতা ইসতিয়াক সরকার বিপুকে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ হত্যাকাণ্ডে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ইমতিয়াজ সরকার জানান, ইসতিয়াক সরকার বিপু ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৯ সাল থেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজপথে ছিলেন তিনি এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে অংশ নেন। পরে ২০১৭ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে ২০১৮ সালে দুই মামলায় কারাভোগ করেন।
তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর দুপুরে বিপু বিজয় মিছিল নিয়ে পূবালী চত্বরে যায়। পরে পুলিশের ফোনে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হলে বিপু নেতাকর্মীদের নিয়ে থানায় অবস্থান নেয়। থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় সেখানে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণিত।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওইদিন রাতে বিপু এলাকায় ফিরে আসার পর জানতে পারেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। “একই ব্যক্তি একই সময়ে দুটি পৃথক ঘটনায় থাকতে পারেন না,” দাবি করেন ইমতিয়াজ সরকার।
তিনি বলেন, “আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বিএনপি ঘরানার নেতা ছিলেন। তার হত্যাকারীরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হত্যার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও পুলিশের কাছে আছে, যা যাচাই করলে বিপুর সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রথমে বিপুর নাম মামলায় ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরে তার নাম জড়ানো হয়। একটি ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করানো হয়, যদিও ওই ব্যক্তি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। এ ছাড়া আরও কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকেও মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমতিয়াজ সরকার জানান, সম্প্রতি “ফেইস দ্যা পিপল” অনুষ্ঠানে মামলার বাদীকে সাংবাদিক ইসতিয়াক সরকার বিপু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ওই নামে কাউকে চেনেন না এবং নামটি প্রথমবার শুনেছেন।
পরিশেষে তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, “আমরা চাই খুনিরা শাস্তি পাক। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় নিরপরাধ বিএনপি নেতাকে ফাঁসানো বন্ধ হোক। পুলিশ ও এলাকার মানুষ সত্য জানে। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ ও সুবিচার চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি মাহবুবুর রহমান দুলাল,
আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা এস আলম,১১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জহিরুল হক, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম তিতাস,সহ-সভাপতি কামরুল আহসান মামুন, ৫নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ফখরুল আলম উল্লাসসহ অন্যরা।
ছবিঃ কুমিল্লায় বিএনপি নেতা ইসতিয়াক সরকার বিপুকে আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।