
দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ//
“৫ আগস্ট বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ৪ আগস্ট কুমিল্লায় আমরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম”—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিতে নেতৃত্বদানকারী কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু’র বক্তব্যে সেই দিনের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়।
আবু বলেন, “৩ আগস্ট শিক্ষার্থীদের উপর বর্বরোচিত হামলার পর সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ আসে ছাত্র আন্দোলনে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের যুক্ত করার। সারা রাত আমরা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করি এবং ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করি।”
তিনি জানান, ৪ আগস্ট ভোর থেকেই কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে অবস্থান নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সড়ক অবরোধে শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ম হয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাও যুক্ত হন। “আমরা বুঝেছিলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব জেলা পর্যায়ে আমাদের বিভক্ত করে রাখতে চায়। তাই ছাত্র আন্দোলনের মোর্চাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিই,” বলেন আবু।
ঘটনার বর্ণনায় আবু বলেন, “আমরা তখনো নাজিরা বাজারে অবস্থান করছিলাম। খবর পাই আলেখারচরে ছাত্রদের উপর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা হামলা চালাচ্ছে। দ্রুত মিছিল নিয়ে সেখানে গেলে আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়। আমরা ক্যান্টনমেন্ট ফটকের দিকে সরে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”
আবু বলেন, “আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যখন ক্যান্টনমেন্ট ফটকের কাছে গুলি চালাচ্ছিল, তখন সেনাবাহিনীর একটি ট্যাংক আমাদের সামনে এনে দাঁড় করানো হয়। সেনারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আওয়ামী ক্যাডারদের পিছু হটায়। সেই সুযোগে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিয়ে মহাসড়ক থেকে তাদের বিতাড়িত করি।”
তিনি বলেন, “সেই মুহূর্তেই কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আমাদের হাতে চলে আসে। আমরা বুঝতে পারি, এটা আমাদের বিজয়ের দিন। ছাত্রদের আন্দোলনকে ঘিরেই আমরা জেলা আওয়ামীলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছিলাম— কুমিল্লায় আর আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।”
উদবাতুল বারী আবু বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, তার আগুন জ্বলে উঠেছিল ৪ আগস্ট কুমিল্লায়। কুমিল্লার এই বিজয়ই ছিল স্বৈরাচার পতনের প্রথম ধাক্কা।”